Posts

Showing posts with the label dark

ডিকন্সট্রাক্টিং অ্যান্টিপর্নো

Image
ঘন হলুদের মধ্যে চেরি ব্লসম লাইট ট্রি এর ব্যাকগ্রাউন্ড, সামনে নৃত্যরত কিয়োকো (তোমিতে আমি) এই ওপেনিং সিন দিয়ে শুরু সিওন সোনোর লিখিত ও পরিচালিত 'এন্টিপর্নো' । মূলতঃ জাপানি পিঙ্ক ফিল্ম/ সফ্‌টকোর পর্নোর একটি ধারা 'রমোঁ পর্নো' এর অগ্রদূত স্টুডিও নিক্কাৎসুর নতুন উদ্যোগ সেই সত্তর-আশি দশকে দর্শক-সমালোচকদের প্রশংসা কুড়ানো ধারাটার এক্সপেরিমেন্টাল রিবুট বড় পর্দায় আনা, তার অংশ হিসেবে নিক্কাৎসুর ব্যানারে মুক্তি পেয়েছে 'ওয়েট ওম্যান ইন দি উইন্ড' , 'অ্যারাউসড বাই জিম্নোপেডিস' এর মত সিনেমা, আর সাথে সোনোর অবদান। সোনো, যিনি স্বঘোষিত প্রথাবিরোধী, নিজেকে এন্টি-ওজু (জাপানি পরিচালক ওজু ইয়াসুজিরো) দাবি করেছেন, 'সুইসাইড সার্কল' এর মত সিনেমা তৈরি করেছেন জাপানিদের কাছ থেকে ঘৃণা কুড়ানোর উদ্দেশ্যে, তার কাছে থেকে এটাই আশা করা যায় যে রমোঁ পর্নোর পথে নেমে ভিন্ন কিছু উন্মোচিত করবে এই সোয়া এক ঘন্টার সিনেমাটি। তার আগে কিছুটা ব্যাকড্রপ। নৃত্য- ও চিত্র-শিল্পী কিয়োকোর নির্জন ফ্ল্যাটে তাকে দেখা যায় নিজের প্রতি ঘৃণা প্রকাশ করতে, ধীরে ধীরে এই ঘৃণা ছড়িয়ে পড়ে তার অ্যাসিস্টেন্ট...

Dig Two Graves (2014)

Image
হান্টার অ্যাডামসের গল্প এবং ডিরেকশন, আমার কাছে নতুন, যেমন নতুন সুইডিশ সিনেমাটোগ্রাফার এরিক ম্যাডিসনের কাজও। সেই হিসেবে পুরষ্কারজয়ী ' ডিগ টু গ্রেইভস ' সিনেমাটি আমার জন্য পরিচিতিপর্ব বলা চলে। মূলতঃ হরর ক্যাটেগরিতে নমিনেশন পেলেও একে থ্রিলার বলাটাই ভালো যদিও এর মধ্যে কিছু হরর ইলিমেন্ট আছে। বিশেষতঃ জিপ্‌সি, ব্ল্যাক ম্যাজিক কিছু কিছু উপাদান আছে, যদিও সিনেমার দৈর্ঘ্যের তুলনায় সেগুলোর উপস্থিতি কম। কিন্তু সিনেমার বর্ণ্নায় এতটুকু দেখে মনে হওয়াই স্বাভাবিক এটি একই ধরনের ফিল্মগুলোর (১৯৭৩ এর ' দি উইকারম্যান   '   এর কথা মনে আসছে) মত এতে ন্যুডিটি, স্ল্যাশার থিম থাকবে কিন্তু এগুলো নেই বললেই চলে। যদিও একধরনের শিরশিরে ভাব আছে কিছুটা। তথাপি, হরর থিম। এছাড়াও, সাউথার্ন ইলিনয়ের প্রকৃতি-আবৃত সেটিং, সেট ডিসাইন এবং ম্যাডিসনের ফটোগ্রাফিতে সিনেমাটিতে সাউথার্ন গথিক ভাবটা প্রকটভাবে চোখে পড়ে। যদিও অনেক চরিত্রের সাউথার্ন অ্যাক্সেন্ট এবং সিনেমাটির কিছু 'কামিং-অফ-এইজ' থিমের জন্য একে অনেকে স্টিফেন কিং এর ' দি বডি  ' এবং সেই সূত্রে ' স্ট্যান্ড বাই মি  ' (১৯৮৬) এর সাথে তুল...

জীবন যখন এক্সিস্টেনশিয়াল হরর

Image
টাইটেল দিয়ে মিসইনফর্মেশন দিয়ে ফেলবো - তাই আগেভাগেই বলে রাখা ভালো, বর্তমানের অন্যতম সফল ইন্ডি ফিল্মমেকার ডেভিড লোয়ারি'র A Ghost Story (২০১৭) ভূতের গল্প নয় - এবং এরকম মার্কেটিং ও করা হয়নি বলেই আশা লোয়ারির, যদিও তার মতে, "আমি শিওর কোন একটা থিয়েটারে কেউ কেউ রেগেমেগে চিন্তা করছে, শুধু শুধু ১৫ ডলার খরচ করলাম হরর দেখবো মনে করে।"    গল্পের অনুপ্রেরণাটাও সরলঃ লোয়ারির স্ত্রী চাচ্ছিলের তারা লস এঞ্জেলেসে স্থানান্তর করবেন, কিন্তু তাদের টেক্সাসের বাসাটির প্রতি এক ধরনের মায়া জন্মে গিয়েছিল লোয়ারির। সেই সময়ে তিনি এক ধরনের এক্সিস্টেনশিয়াল ডিপ্রেশনের মধ্যেও ছিলেন, বলেন তিনি। এরপর রুনি মারা আর কেসি অ্যাফ্লেককে নিয়ে টেক্সাসে গিয়ে লুকিয়ে লুকিয়ে শুট করে ফেলেন 'আ গোস্ট স্টোরি' । ফিল্মমেকার নিজে একজন এথিইস্ট, পরকালে বিশ্বাস নেই তার, বলেছেন তিনি - এসময় পৃথিবীতে নিজের সৃষ্টি ও অস্তিত্বের অস্থায়িত্ব ও তুচ্ছতার চিন্তা প্লাবিত করে সবাইকেই, বিশেষ করে আর্টিস্ট ও শিল্পস্রষ্টাদের। এই অনুভূতিকে তুলে ধরে এনেছেন ফিল্মমেকার অত্যন্ত সূক্ষ্মভাবে। একাডেমিক রেশিওর ১.৩৩ঃ১ ফ্রেমে আবদ্ধ, এর কোণাগ...

It Comes At Night: মৃত্যুর মুখে মানবতা

Image
পৃথিবীর শেষ ব্যাপারটা কেমন হবে? অ্যাপোক্যালিপ্স বলতে এখনও মানবসমাজেরই শেষ বোঝানো হয় - কিন্তু তখন কেমন হতে পারে? এই প্রশ্ন নিয়ে আর্টিস্টদের চারণার শেষ নেই। সেটা কেমন হতে পারে? তখন মানুষ কেমন হতে পারে? Mad Max Fury Road (২০১৫) এর তেলের উপর ভিত্তি করে ক্ষমতা ব্যবস্থা, The Road (২০০৯) এর জীবনের মৌলিক উপাদান খুঁজে বেঁচে থাকার সংগ্রাম, না 28 Days Later (২০০১) এর জম্বি থেকে পালিয়ে থাকা? তখন মানুষের সাইকোলজিক্যাল অবস্থা কেমন হতে পারে?  Krisha (২০১৫) খ্যাত লেখক-ডিরেক্টর ট্রেই এডওয়ার্ড শুলজ তার দ্বিতীয় ফিচার It Comes At Night (২০১৭) এর জন্য অনুপ্রেরণা নেন কার্পেন্টারের  The Thing , কুব্রিকের  The Shining আর রোমেরোর  Night of The Living Dead এর মত হরর ক্লাসিকগুলো থেকে - যদিও তিনি এই ফিল্মটিকে হরর ফিল্ম হিসেবে দেখেন না। এইসব ক্লাসিকগুলোতে বিপদের মুখে কিভাবে ভয় থেকে অবিশ্বাস ও প্যারানয়া মানুষকে পরিবর্তন করে ফেলে - এই বিষয়টি তাকে আকর্ষিত করে, বলেছেন শুলজ। মানুষের নিজের ক্ষমতা ধরে রাখার যে চেষ্টা, ভূত/এলিয়েন বা অভূতপূর্ব বিপদের থেকে নিজেকে বা নিজের পরিবারকে শক্তিশালী প্র...