Posts

Showing posts with the label suicide

সুইসাইড সার্কলঃ সুইসাইড ও সমাজ

Image
লেখক, ফিল্মমেকার, কবি সিওন সোনোর সম্ভবত সবচেয়ে পরিচিত সিনেমা Suicide Club/ Suicide Circle (২০০১) নিয়ে একটি ব্যাপার পরিষ্কারঃ এই ফিল্মটি মানুষ হয় ভালোবাসে নাহলে বুঝতে পারেনা। সিনেমাটি নিয়ে লিখতে বসে লিখা শেষ করতে পারছিলাম না। তাই এটি যতটা না রিভিউ, তার চেয়ে বেশি অ্যানালাইসিস। তাই বলা বাহুল্য - এটি ভালোই স্পয়লার্ড। আমি রিকমেন্ড করবো দেখা না থাকলে আগে সিনেমাটি দেখে নিতে। আমার মত যারা স্পয়লার জেনে নিয়েই শুরু করো তাদের কথা ভিন্ন। যাইহোক, শুনলে হয়তো মনে হবে আমি প্রথম দলে - কিন্তু সিনেমাটির ব্যাকগ্রাউন্ড নিয়ে জানা যায় যে, গল্পকার/ডিরেক্টর সোনোর বন্ধু হঠাৎ করে সুইসাইড করেছিলেন - কারণটা আর জানা যায়নি। সেখান থেকে ইন্সপায়ারেশন পেয়েছিলেন এই অল-রাউন্ডার। তাই সিনেমাটিতে যদি কনফিউশনের একটা ভাব থাকে, তবে বলতে হবে সেটি তার এই মাইন্ডসেট থেকেই উদ্ভূত। তাই সিনেমাটির ডিটেক্টিভ কুরোদা ও ডিটেক্টিভ শিবুসাওয়ার মতন আমরাও যদি চিন্তা করতে থাকি কিভাবে কি - তাহলে একটু ঝামেলায় পড়তে হবে। অনেক ক্রিটিক কোন এক কারণে একে তাকাশি মিকের Audition (১৯৯২) এর সাথে তুলনা করেন (দুইটিই হরর/ রিও ইশিবাশি আছেন দুইটিতে এই কার...

The Virgin Suicides: রঙিন চশমা

Image
[ minor spoilers ] সোফিয়া কপোলার হাতে 'দ্য ভার্জিন সুইসাইডস' এর একটি কপি আসার পর তিনি চিন্তা করেছিলেন এটা নিয়ে বানিয়ে ফেলবেন একটি ফিল্ম। তারপর এসে পড়ে The Virgin Suicides (১৯৯৯)। অন্যদিকে, জেফ্রি ইউজিনিডিসের ১৯৯৩ নভেল 'দ্য ভার্জিন সুইসাইডস' একটা মিক্সড রিঅ্যাকশন নভেলঃ কেউ একে ভালোবাসে, আবার কেউ একে মনেপ্রাণে ঘৃণা করে। নভেল নিয়ে যেই মতামতই হোক, কপোলার ফিচার ফিল্মটি নিঃসন্দেহে তার অন্যতম মাস্টারপিস, যার অ্যাস্থেটিকগুলো এখনো সত্তর/আশি দশকের থিমের ফিল্মমেকারদের অনুপ্রাণিত করে।    বই অ্যাডাপশন হিসেবে সিনেমাটি যথেষ্ট অনুগত - সিনেমার ন্যারেশনেও বইটির ফার্স্ট পার্সন প্লুরাল কণ্ঠ ব্যবহৃত হয়েছে, যার জন্য অনেকে এটিকে গ্রিক কোরাস বলে থাকেন (উল্লেখ্যঃ গ্রিক কোরাস ব্যাপারটা হলো একদল মুখোশধারী পার্ফরমার যারা একস্বরে এক চরিত্র হয়ে কথা বলে কোন একটি ড্রামাটিক ঘটনা নিয়ে। গ্রিক নাটক থেকে অনুপ্রাণিত)। যদিও লেখক মজা করে বলেন, আমার নাম ইউজিনিডিস না হলে এটাকে কেউ গ্রিক কোরাস বলতোনা। যাইহোক, এই নামহীন বক্তা একদল ছেলের পক্ষে কথা বলেন, যারা বড় হয়ে নিজেদের পরিবার নিয়ে জীবন পার কর...

রিভিউঃ Sala samobójców (2011)

Image
আত্মহত্যা ব্যাপারটা নিয়ে ডিয়েল করা সিনেমাগুলো বেশিরভাগই একটু ইন্ডি বা আন্ডারগ্রাউন্ড ধরনের, আমার দেখা অন্যান্য পলিশ ডাইরেক্টরদের সিনেমাগুলোও। সেই হিসেবে ইয়ান কোমাসার তৃতীয় ফিচার ফিল্ম Sala samobójców (2011) বা Suicide Room মেইন্সট্রিমের দিকে। গল্পের ব্যাপারটা এরকম, পলিটিশিয়ান বাবা ও অ্যাডভার্টাইজিং সিইও মায়ের একমাত্র সন্তান ডমিনিক সান্তোর্স্কি। ধনী পরিবার, দামি প্রাইভেট স্কুল, হুলুস্থুল ব্যাপার। প্রমের সময় একটা ঘটনায় সবাই বিশ্বাস করতে শুরু করে যে ডমিনিক হোমোসেক্সুয়াল, শুরু হয় সাইবার বুলিইং। এক পর্যায়ে ডমিনিক পরিচিত হয় সিল্ভিয়ার সাথে - সে প্রধান একটি 'ওয়ার্ল্ড অফ ওয়ারক্রাফট' অনুপ্রাণিত অনলাইন ভার্চুয়াল জগতের, যার নাম সালা সামোবইসভ, বা সুইসাইড রুম। ফিল্মটি দেখার প্রথম ইম্প্রশন হচ্ছেঃ ইমোকোর। আমাদের টিনেজ বয়সের 'সবুজ রুমে কালো চুলের ছেলে কালো হুডি পড়ে মাটিতে বসে আছে' জাতীয় ছবি প্রোফাইল পিকচার দেওয়া আর 'বুলেভার্ড অফ ব্রোকেন ড্রিমস' গান শোনার দিনের কথা মনে পড়ে গেল। তবে সিনেমাটিতে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ থিম উঠে এসেছে - একাকীত্ব, ডিপ্রেশন, সুইসাইডাল টেন্ডেন্...

অ্যাবসার্ডিসমঃ সুইসাইড ও ভালোবাসা

Image
[ minor spoilers ] ফিলসফিতে অ্যাবসার্ডিস্ম বলে একটা শাখা আছে - বলা যায় এক্সিস্টেনশিয়ালিস্ম লাইনের দর্শনে। নিহিলিজম থেকে প্রশ্ন আসে যে পৃথিবীর কোন মিনিং নেই এবং তাহলে স্পিশিস হিসেবে আমাদের অস্তিত্বের কোন অর্থ নেই? এর উত্তর হিসেবে সার্ত্রে একটা মত দেন যা এক্সিস্টেনশিয়ালিস্ম নামে পরিচিত - তার মতে পৃথিবীর সৃষ্টিগতভাবে কোন অর্থ নেই সেটি ছাড়া, যা আমরা দিয়ে থাকিঃ একটি চেয়ার হচ্ছে চেয়ার, বসার জন্য কারণ আমরা তার রোল ঠিক করেছি সেভাবেই...যাইহোক তিনি বলে থাকেন - মানুষ হিসেবে আমাদের জীবনের অর্থ তখনই তৈরি হয় যখন আমরা সেটা নিজেরা যাচাই করে নেই।  এই যে বের করে নেওয়ার প্রক্রিয়াটি, এটি কিন্তু শেষ বিচারের হিসেবে শূন্যঃ একটি চেয়ার, চেয়ার হলেও পৃথিবী ঘুরবে, না হলেও। কিন্তু কাঠের টুকরাটিকে চেয়ারের রোল দেয়া হয় বলে এটি কাঠের টুকরোর চেয়ে বেশি কিছু। আমরা কাঠের টুকরো নই যেহেতু তাই আমাদের রোল আমাদের নিজেদেরই বের করতে হবে। যদিও সেটিও শেষ বিচারে শূন্যইঃ তাহলে এই ''মিনিং'' খোঁজ করার ব্যাপারটা 'অ্যাবসার্ড', বা...অদ্ভূত না? কিন্তু তারপরও আমরা খুঁজে যাই - আর এটিই অ্যাবসার্ডিস্ম।        ...