Posts

Showing posts with the label drama

Closer (2004)

Image
প্যাট্রিক মার্বারের পুরষ্কারপ্রাপ্ত ব্রডওয়ে থিয়েটার নাটক থেকে বড়পর্দার অ্যাডাপশন, ডিরেক্টর মাইক নিকোলসের "ক্লোজার"। মরিসির সাউন্ডট্র্যাকে প্রথমেই দেখা যায় নাটালি পোর্ট্ম্যানের 'অ্যালিস' আর জুড লও এর  'ড্যান' এর মধ্যে চোখাচোখি। ইন্সট্যান্ট কেমিস্ট্রি। শুরু হলো কাছে আসার গল্প। এই ভুল ভাঙ্গাতে দেরি হয়না - কিছুক্ষ্ণ পরেই দেখা যায় ড্যানের দ্বৈত চরিত্রকে। তাই বলে অ্যানা-ও যে দোষহীন তা বলা যায়না। ড্যান, অ্যালিস, অ্যানা ও ল্যারির মধ্যে যে ব্যাপারটা, তাকে কি বলা যায় - লাভ স্কয়্যার? সিনেমাটিতে চরিত্রগুলোর মধ্যে মিষ্টি প্রেমের খোঁজে আসলে ব্যর্থ হতে হবে। তবে লেখকের উদ্ধৃতি করার মত ডায়ালগ এবং ডিরেক্টরের ইন্টেরেস্ট ধরে রাখার ক্ষমতার মিশেল অসাধারণ। ফলস্বরূপ যে কাহিনীটা চোখের সামনে ফুঁটে উঠতে থাকে , তাকে ভালোবাসার গল্প না বলা যাবেনা হয়তো; এতে সূক্ষ্মভাবে দেখা যায় ভালোবাসা ও বিশ্বাসের আরেকরকম ডেফিনিশন।   বিশ্বাসের কথা থেকে উল্লেখযোগ্য - বিভিন্ন দৃশ্যে ড্যান এবং ল্যারি তাদের পার্টনারকে বলে তাদের ভালোবাসে বলেই তারা তাদের সাথে মিথ্যা বলতে চায় না, তাদের কাছ থেকে ক...

জীবন যখন এক্সিস্টেনশিয়াল হরর

Image
টাইটেল দিয়ে মিসইনফর্মেশন দিয়ে ফেলবো - তাই আগেভাগেই বলে রাখা ভালো, বর্তমানের অন্যতম সফল ইন্ডি ফিল্মমেকার ডেভিড লোয়ারি'র A Ghost Story (২০১৭) ভূতের গল্প নয় - এবং এরকম মার্কেটিং ও করা হয়নি বলেই আশা লোয়ারির, যদিও তার মতে, "আমি শিওর কোন একটা থিয়েটারে কেউ কেউ রেগেমেগে চিন্তা করছে, শুধু শুধু ১৫ ডলার খরচ করলাম হরর দেখবো মনে করে।"    গল্পের অনুপ্রেরণাটাও সরলঃ লোয়ারির স্ত্রী চাচ্ছিলের তারা লস এঞ্জেলেসে স্থানান্তর করবেন, কিন্তু তাদের টেক্সাসের বাসাটির প্রতি এক ধরনের মায়া জন্মে গিয়েছিল লোয়ারির। সেই সময়ে তিনি এক ধরনের এক্সিস্টেনশিয়াল ডিপ্রেশনের মধ্যেও ছিলেন, বলেন তিনি। এরপর রুনি মারা আর কেসি অ্যাফ্লেককে নিয়ে টেক্সাসে গিয়ে লুকিয়ে লুকিয়ে শুট করে ফেলেন 'আ গোস্ট স্টোরি' । ফিল্মমেকার নিজে একজন এথিইস্ট, পরকালে বিশ্বাস নেই তার, বলেছেন তিনি - এসময় পৃথিবীতে নিজের সৃষ্টি ও অস্তিত্বের অস্থায়িত্ব ও তুচ্ছতার চিন্তা প্লাবিত করে সবাইকেই, বিশেষ করে আর্টিস্ট ও শিল্পস্রষ্টাদের। এই অনুভূতিকে তুলে ধরে এনেছেন ফিল্মমেকার অত্যন্ত সূক্ষ্মভাবে। একাডেমিক রেশিওর ১.৩৩ঃ১ ফ্রেমে আবদ্ধ, এর কোণাগ...

মফস্বল স্বপ্ন ও একটি লাঞ্চবক্সের গল্প

Image
[minor spoilers] সাবার্বান, মফস্বল, মধ্যবিত্ত যেটাই বলা হোক না কেন - এই ধরণের জীবনের ব্যাপারগুলোকে সেলুলয়েডে বন্দি হতে দেখার অনুভূতিটাই অন্য। না হাই-পলিশড কাচের তৈরি সেটিং, না নাইট্রো ফুয়েল্ড ১৭০-এমপিএইছ, বা জটিল লজিকের সিনেমা (যদিও জটিল লজিকের সিনেমাগুলোই আমার লিস্টে প্রথমদিকে থাকে)। যেই কারণে হুমায়ুন আহমেদের বই পড়তে, বা ওং কার-ওয়াই এর সিনেমা দেখতে ভালো লাগে। পশ্চিমা 'সাবার্ব' থেকে এশিয়ান 'মফস্বল' এর পার্থক্য এভাবেও চোখে পড়ে। যাইহোক, ভালো নোট দিয়ে The Lunchbox (2013) এর রিভিউ শুরু করলাম।    হিন্দি সিনেমা কম দেখার দলে আমি, এটা বলার অপেক্ষা রাখেনা - সবার মত 'থ্রি ইডিওটস'ও অলসতার ছলে অনেকদিন দেখা পিছিয়ে রেখেছিলাম। তারপর ইন্ডি ধাচের 'দি লাঞ্চবক্স'এর নাম দেখে আমিও উৎসুক হলাম। রিতেশ বাত্রার ডেব্যু ফিচার ফিল্মঃ বাফটা, কান-এ জয়জয়কার।   গল্পটা সিম্পলঃ ইলা নামের এক মধ্যবিত্ত গৃহিণী তার চাকরিজীবী স্বামীর জন্য খাওয়া রান্না করে পাঠায় লাঞ্চবক্স বা 'ডিব্বা' ডেলিভারি সার্ভিসের মাধ্যমেঃ গোলমাল বাঁধে যখন ঠিকানা অদলবদল হয়ে যায়; এভাবে তৈরি হয় ...

একটি রুম ও আমার জীবনের ১ঘন্টা ৪০মিনিট (অ্যাপ্রোক্সিমেটলি)

Image
শুরুতে আমার জানা একটি টিডবিড দিয়ে শুরু করি। ইন্সুরেন্স ও সার বিক্রেতা হ্যারোল্ড পি. ওয়ারেন একাডেমি অ্যাওয়ার্ডপ্রাপ্ত স্টারলিং সিলিফ্যান্টের সাথে একটি বাজি ধরেছিলেন যে, যে কেউই সিনেমা লিখে বানাতেও পারে। এভাবে মুক্তি পায় ১৯৬৬ সালে মানোসঃ দি হ্যান্ডস অফ ফেইট ; বাকিটা ইতিহাস। বলা বাহুল্য, ওয়ারেন বাজিতে জিতেছিলেন কারণ তিনি ফিল্মটা বানিয়ে শেষ করতে পেরেছিলেন। টমি উইসও এরকম কোন বেট করেছেন বলে জানা নেই - তবে 'দি রুম' এখন পরিচিত 'সিটিজেন কেইন অফ ব্যাড মুভিস' হিসেবে, আবার অন্যতম কাল্ট ক্লাসিক হিসেবে।   হ্যা, লিসার মা, আমিও এই প্রশ্ন অনেকবার করেছি... গল্প হলো এরকমঃ সফল ব্যাঙ্কার এবং চাকরস্বামী (চাকর যে স্বামী) জনির সাথে লিসার কথা পাকাপাকি। এরপর লিসা ঠিক করে সে জনিকে ভালোবাসেনা। ট্র্যাজেডি আনফোল্ডস।  যদিও ফিল্মটি (মেলো)ড্রামা কিন্তু ক্রিটিকরা স্বাচ্ছন্দ্যেই একে কমেডি হিসেবে রিভিউ দেন। কিভাবে ফোনের অপর প্রান্তের কথা টেপ রেকর্ডে ধরা পড়ে বা সেফটি ক্যাচ ছাড়া গুলি ফায়ার হয় ইত্যাদি টেকনিক্যালিটিতে গেলাম না। ১৫ সেকেন্ডে ফুল কিনে বের হয়ে যাওয়ার ব্যাপার, বা মার্কের সাথে...

The Virgin Suicides: রঙিন চশমা

Image
[ minor spoilers ] সোফিয়া কপোলার হাতে 'দ্য ভার্জিন সুইসাইডস' এর একটি কপি আসার পর তিনি চিন্তা করেছিলেন এটা নিয়ে বানিয়ে ফেলবেন একটি ফিল্ম। তারপর এসে পড়ে The Virgin Suicides (১৯৯৯)। অন্যদিকে, জেফ্রি ইউজিনিডিসের ১৯৯৩ নভেল 'দ্য ভার্জিন সুইসাইডস' একটা মিক্সড রিঅ্যাকশন নভেলঃ কেউ একে ভালোবাসে, আবার কেউ একে মনেপ্রাণে ঘৃণা করে। নভেল নিয়ে যেই মতামতই হোক, কপোলার ফিচার ফিল্মটি নিঃসন্দেহে তার অন্যতম মাস্টারপিস, যার অ্যাস্থেটিকগুলো এখনো সত্তর/আশি দশকের থিমের ফিল্মমেকারদের অনুপ্রাণিত করে।    বই অ্যাডাপশন হিসেবে সিনেমাটি যথেষ্ট অনুগত - সিনেমার ন্যারেশনেও বইটির ফার্স্ট পার্সন প্লুরাল কণ্ঠ ব্যবহৃত হয়েছে, যার জন্য অনেকে এটিকে গ্রিক কোরাস বলে থাকেন (উল্লেখ্যঃ গ্রিক কোরাস ব্যাপারটা হলো একদল মুখোশধারী পার্ফরমার যারা একস্বরে এক চরিত্র হয়ে কথা বলে কোন একটি ড্রামাটিক ঘটনা নিয়ে। গ্রিক নাটক থেকে অনুপ্রাণিত)। যদিও লেখক মজা করে বলেন, আমার নাম ইউজিনিডিস না হলে এটাকে কেউ গ্রিক কোরাস বলতোনা। যাইহোক, এই নামহীন বক্তা একদল ছেলের পক্ষে কথা বলেন, যারা বড় হয়ে নিজেদের পরিবার নিয়ে জীবন পার কর...

রিভিউঃ Sala samobójców (2011)

Image
আত্মহত্যা ব্যাপারটা নিয়ে ডিয়েল করা সিনেমাগুলো বেশিরভাগই একটু ইন্ডি বা আন্ডারগ্রাউন্ড ধরনের, আমার দেখা অন্যান্য পলিশ ডাইরেক্টরদের সিনেমাগুলোও। সেই হিসেবে ইয়ান কোমাসার তৃতীয় ফিচার ফিল্ম Sala samobójców (2011) বা Suicide Room মেইন্সট্রিমের দিকে। গল্পের ব্যাপারটা এরকম, পলিটিশিয়ান বাবা ও অ্যাডভার্টাইজিং সিইও মায়ের একমাত্র সন্তান ডমিনিক সান্তোর্স্কি। ধনী পরিবার, দামি প্রাইভেট স্কুল, হুলুস্থুল ব্যাপার। প্রমের সময় একটা ঘটনায় সবাই বিশ্বাস করতে শুরু করে যে ডমিনিক হোমোসেক্সুয়াল, শুরু হয় সাইবার বুলিইং। এক পর্যায়ে ডমিনিক পরিচিত হয় সিল্ভিয়ার সাথে - সে প্রধান একটি 'ওয়ার্ল্ড অফ ওয়ারক্রাফট' অনুপ্রাণিত অনলাইন ভার্চুয়াল জগতের, যার নাম সালা সামোবইসভ, বা সুইসাইড রুম। ফিল্মটি দেখার প্রথম ইম্প্রশন হচ্ছেঃ ইমোকোর। আমাদের টিনেজ বয়সের 'সবুজ রুমে কালো চুলের ছেলে কালো হুডি পড়ে মাটিতে বসে আছে' জাতীয় ছবি প্রোফাইল পিকচার দেওয়া আর 'বুলেভার্ড অফ ব্রোকেন ড্রিমস' গান শোনার দিনের কথা মনে পড়ে গেল। তবে সিনেমাটিতে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ থিম উঠে এসেছে - একাকীত্ব, ডিপ্রেশন, সুইসাইডাল টেন্ডেন্...

ঝড়ে পড়ে যাওয়া পাখি আর মাইক্রোস্টোরি সমস্যা

Image
[ spoilers ] কোনরকম কষ্টে মষ্টে কিশোর বয়সটা পার করতে পারলেই হলো; কেউ বলবে সেটা ছিলো তাদের জীবনের শ্রেষ্ঠ সময়, কেউ বলবে কৈশোরকালের নানা অপাওয়ার কথা। তবে যাইহোক, সেই সময়টার রহস্যগুলোই তাড়া করে ফিরে আমাদের ইনার-টিনেজারকে। এরকম থিমটাই মূল উপজীব্য লরা সাসিশ্‌কে এর বই White Bird in a Blizzard - এ। যার উপর ভিত্তি করে গ্রেগ আরাকির ২০১৪ এর ফিল্ম, একই নামে।  ইন্ডি ফিল্মমেকার হিসেবে আরাকি এক কথায় অসামান্য। তার ফিল্মে নিহিলিজম, অ্যাপেথি, সেক্‌শুয়ালিটি এরকম ব্যাপারগুলো তিনি খুব সামনাসামনি ভাবে তুলে ধরেন। এক কথায় বোল্ড। মিলেনিয়াল টিনেজ ব্যাপারগুলো এজন্য তার চেয়ে ভালো করে তুলে ধরার মতন মানুষ কমই আছে, বলা যায়। তার ফিল্মের কালার গ্রেডিং থেকে শুরু করে ক্যারেক্টার শট গুলাতে একধরনের রক-অ্যান্ড-রোল, ফ্যান্টাসি ভাব ফুঁটে উঠে থাকতে দেখা যায়।  এই থিমগুলো হোয়াইট বার্ড-এ ও কন্টিনিউড। তবে তার অন্যান্য ফিল্মগুলো থেকে এটা কিছুটা ভিন্ন। আপাতদৃষ্ট শর্ট টার্ম কাজ-কারবার ছাড়াও, সর্বসাপেক্ষে আরেকটা বড় থিম নিয়ে আলোচনা রয়েছে এই ফিল্মটিতে। 'আম্ব্রেলা আইডিয়া' ব্যাপারটা হলো এখানে এরকমঃ ক্যাট কনা...