Posts

Showing posts with the label foreign

ডিকন্সট্রাক্টিং অ্যান্টিপর্নো

Image
ঘন হলুদের মধ্যে চেরি ব্লসম লাইট ট্রি এর ব্যাকগ্রাউন্ড, সামনে নৃত্যরত কিয়োকো (তোমিতে আমি) এই ওপেনিং সিন দিয়ে শুরু সিওন সোনোর লিখিত ও পরিচালিত 'এন্টিপর্নো' । মূলতঃ জাপানি পিঙ্ক ফিল্ম/ সফ্‌টকোর পর্নোর একটি ধারা 'রমোঁ পর্নো' এর অগ্রদূত স্টুডিও নিক্কাৎসুর নতুন উদ্যোগ সেই সত্তর-আশি দশকে দর্শক-সমালোচকদের প্রশংসা কুড়ানো ধারাটার এক্সপেরিমেন্টাল রিবুট বড় পর্দায় আনা, তার অংশ হিসেবে নিক্কাৎসুর ব্যানারে মুক্তি পেয়েছে 'ওয়েট ওম্যান ইন দি উইন্ড' , 'অ্যারাউসড বাই জিম্নোপেডিস' এর মত সিনেমা, আর সাথে সোনোর অবদান। সোনো, যিনি স্বঘোষিত প্রথাবিরোধী, নিজেকে এন্টি-ওজু (জাপানি পরিচালক ওজু ইয়াসুজিরো) দাবি করেছেন, 'সুইসাইড সার্কল' এর মত সিনেমা তৈরি করেছেন জাপানিদের কাছ থেকে ঘৃণা কুড়ানোর উদ্দেশ্যে, তার কাছে থেকে এটাই আশা করা যায় যে রমোঁ পর্নোর পথে নেমে ভিন্ন কিছু উন্মোচিত করবে এই সোয়া এক ঘন্টার সিনেমাটি। তার আগে কিছুটা ব্যাকড্রপ। নৃত্য- ও চিত্র-শিল্পী কিয়োকোর নির্জন ফ্ল্যাটে তাকে দেখা যায় নিজের প্রতি ঘৃণা প্রকাশ করতে, ধীরে ধীরে এই ঘৃণা ছড়িয়ে পড়ে তার অ্যাসিস্টেন্ট...

কুকুরদাঁত

Image
গ্রিক কিয়োনোদন্তাস   আক্ষরিক অর্থে কষদাঁত/ কেনাইনদাঁত/ ফ্যাং (ডগটিথ নামেও পরিচিত) - কুকুরের তো আছেই, মানুষেরও আছে। একপর্যায়ে কুকুরের ট্রেইনার বলেনঃ কুকুর হচ্ছে মাটির মতন - তাকে যেভাবে ইচ্ছা সেভাবে গড়ে তোলার জন্য ট্রেইনিং দিতে হবে। ব্যাপারটা কি মানুষের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য? দি শাইনিং, এনিওয়ান? গ্রিক লেখক/পরিচালক ইয়োর্গোস লান্থিমোসের ২০০৯ এর ফিল্ম Κυνόδοντας ( Dogtooth ) এর প্রতিটি সীন বা দৃশ্যের কাফকায়েস্ক গল্প বলার ভঙ্গি থেকে অনেক ক্রিটিক তাকে মাইকেল হানিকির সাথে তুলনা করেন। সিনেমাটোগ্রাফার থিমিওস বাকাতাকিস তার আগের সিনেমা Kinetta (২০০৫)-তেও তার সাথে কাজ করেছেন - আর তার সফট কালার প্যালেট আর কিছুটা অন্যরকম ফ্রেমিং লান্থিমোসের সারিয়েল ধরনের গল্পটার সাথে মানিয়ে যায়ঃ যেন একটা মানুষ সোজা মুখে বলছে সে একজনকে খুন করেছে। গল্পের পেসিং প্রায় পুরোটা ফিল্ম জুড়ে একইরকমঃ তাই আমরা জানিনা এরপর কি এক্সপেক্ট করতে হবে। সিনেমার একদম শুরুই হয় এক টেপরেকর্ডার থেকেঃ যেখানে তিনজন ভাইবোন শিখে যে 'সমুদ্র মানে একধরনের আর্মচেয়ার' । ডগটুথ সিনেমাটা দেখা একটা এক্সপিরিয়েন্স। এটা বুঝতে হলে সিনেম...

সুইসাইড সার্কলঃ সুইসাইড ও সমাজ

Image
লেখক, ফিল্মমেকার, কবি সিওন সোনোর সম্ভবত সবচেয়ে পরিচিত সিনেমা Suicide Club/ Suicide Circle (২০০১) নিয়ে একটি ব্যাপার পরিষ্কারঃ এই ফিল্মটি মানুষ হয় ভালোবাসে নাহলে বুঝতে পারেনা। সিনেমাটি নিয়ে লিখতে বসে লিখা শেষ করতে পারছিলাম না। তাই এটি যতটা না রিভিউ, তার চেয়ে বেশি অ্যানালাইসিস। তাই বলা বাহুল্য - এটি ভালোই স্পয়লার্ড। আমি রিকমেন্ড করবো দেখা না থাকলে আগে সিনেমাটি দেখে নিতে। আমার মত যারা স্পয়লার জেনে নিয়েই শুরু করো তাদের কথা ভিন্ন। যাইহোক, শুনলে হয়তো মনে হবে আমি প্রথম দলে - কিন্তু সিনেমাটির ব্যাকগ্রাউন্ড নিয়ে জানা যায় যে, গল্পকার/ডিরেক্টর সোনোর বন্ধু হঠাৎ করে সুইসাইড করেছিলেন - কারণটা আর জানা যায়নি। সেখান থেকে ইন্সপায়ারেশন পেয়েছিলেন এই অল-রাউন্ডার। তাই সিনেমাটিতে যদি কনফিউশনের একটা ভাব থাকে, তবে বলতে হবে সেটি তার এই মাইন্ডসেট থেকেই উদ্ভূত। তাই সিনেমাটির ডিটেক্টিভ কুরোদা ও ডিটেক্টিভ শিবুসাওয়ার মতন আমরাও যদি চিন্তা করতে থাকি কিভাবে কি - তাহলে একটু ঝামেলায় পড়তে হবে। অনেক ক্রিটিক কোন এক কারণে একে তাকাশি মিকের Audition (১৯৯২) এর সাথে তুলনা করেন (দুইটিই হরর/ রিও ইশিবাশি আছেন দুইটিতে এই কার...

মফস্বল স্বপ্ন ও একটি লাঞ্চবক্সের গল্প

Image
[minor spoilers] সাবার্বান, মফস্বল, মধ্যবিত্ত যেটাই বলা হোক না কেন - এই ধরণের জীবনের ব্যাপারগুলোকে সেলুলয়েডে বন্দি হতে দেখার অনুভূতিটাই অন্য। না হাই-পলিশড কাচের তৈরি সেটিং, না নাইট্রো ফুয়েল্ড ১৭০-এমপিএইছ, বা জটিল লজিকের সিনেমা (যদিও জটিল লজিকের সিনেমাগুলোই আমার লিস্টে প্রথমদিকে থাকে)। যেই কারণে হুমায়ুন আহমেদের বই পড়তে, বা ওং কার-ওয়াই এর সিনেমা দেখতে ভালো লাগে। পশ্চিমা 'সাবার্ব' থেকে এশিয়ান 'মফস্বল' এর পার্থক্য এভাবেও চোখে পড়ে। যাইহোক, ভালো নোট দিয়ে The Lunchbox (2013) এর রিভিউ শুরু করলাম।    হিন্দি সিনেমা কম দেখার দলে আমি, এটা বলার অপেক্ষা রাখেনা - সবার মত 'থ্রি ইডিওটস'ও অলসতার ছলে অনেকদিন দেখা পিছিয়ে রেখেছিলাম। তারপর ইন্ডি ধাচের 'দি লাঞ্চবক্স'এর নাম দেখে আমিও উৎসুক হলাম। রিতেশ বাত্রার ডেব্যু ফিচার ফিল্মঃ বাফটা, কান-এ জয়জয়কার।   গল্পটা সিম্পলঃ ইলা নামের এক মধ্যবিত্ত গৃহিণী তার চাকরিজীবী স্বামীর জন্য খাওয়া রান্না করে পাঠায় লাঞ্চবক্স বা 'ডিব্বা' ডেলিভারি সার্ভিসের মাধ্যমেঃ গোলমাল বাঁধে যখন ঠিকানা অদলবদল হয়ে যায়; এভাবে তৈরি হয় ...

রিভিউঃ Sala samobójców (2011)

Image
আত্মহত্যা ব্যাপারটা নিয়ে ডিয়েল করা সিনেমাগুলো বেশিরভাগই একটু ইন্ডি বা আন্ডারগ্রাউন্ড ধরনের, আমার দেখা অন্যান্য পলিশ ডাইরেক্টরদের সিনেমাগুলোও। সেই হিসেবে ইয়ান কোমাসার তৃতীয় ফিচার ফিল্ম Sala samobójców (2011) বা Suicide Room মেইন্সট্রিমের দিকে। গল্পের ব্যাপারটা এরকম, পলিটিশিয়ান বাবা ও অ্যাডভার্টাইজিং সিইও মায়ের একমাত্র সন্তান ডমিনিক সান্তোর্স্কি। ধনী পরিবার, দামি প্রাইভেট স্কুল, হুলুস্থুল ব্যাপার। প্রমের সময় একটা ঘটনায় সবাই বিশ্বাস করতে শুরু করে যে ডমিনিক হোমোসেক্সুয়াল, শুরু হয় সাইবার বুলিইং। এক পর্যায়ে ডমিনিক পরিচিত হয় সিল্ভিয়ার সাথে - সে প্রধান একটি 'ওয়ার্ল্ড অফ ওয়ারক্রাফট' অনুপ্রাণিত অনলাইন ভার্চুয়াল জগতের, যার নাম সালা সামোবইসভ, বা সুইসাইড রুম। ফিল্মটি দেখার প্রথম ইম্প্রশন হচ্ছেঃ ইমোকোর। আমাদের টিনেজ বয়সের 'সবুজ রুমে কালো চুলের ছেলে কালো হুডি পড়ে মাটিতে বসে আছে' জাতীয় ছবি প্রোফাইল পিকচার দেওয়া আর 'বুলেভার্ড অফ ব্রোকেন ড্রিমস' গান শোনার দিনের কথা মনে পড়ে গেল। তবে সিনেমাটিতে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ থিম উঠে এসেছে - একাকীত্ব, ডিপ্রেশন, সুইসাইডাল টেন্ডেন্...